Saturday, 11 January 2014


আমায় চুপ থাকতে দেখেছো কখনো ?
সারাদিনের সার্কাসের পর
হলুদ নিওনে
ঝলসানো সত্যে কামড়
দিচ্ছি আমি এখনো......
আমায় চুপ থাকতে দেখেছো কখনো ?

আমার শোবার ঘরের বিছানায় যত ঘাম
তাদের গন্তব্যহীন নাম
আমার এখনো হয়নি লুকোনো...
তবু,আমায় চুপ থাকতে দেখেছো কখনো ?

তোমার ছাদে রোজ রোদ পোহায়
কত শীতল,নিথর,উচ্চারণ
ওদের আমি দেখেছি,
ডেকে ফিরতে করেছি বারণ
করেছি ওষ্ঠে ধারণ.........

তুমি ক্লান্ত?
না মৃত্যু-বিলাসী?
আমি বুঝে উঠিনি এখনো...
কিন্তু বল
সত্যি বল
আমায় চুপ থাকতে দেখেছো কখনো ?
আমায় চুপ ............
জেগে আমি প্রতি রাতের মতো
আজ পাশে তুই নেই
অন্তত......
তবু তোর উচ্ছিষ্ট লেগে
চাদর,দেওয়াল,গায়ে...।

স্বপ্ন বিক্রি করেছি হাজার
দেখব না,চোখ বুজে
আজ আর...
দেখব শুধু আলো,
যাতে জীবন, মৃত্যু খায় ।।

Friday, 3 January 2014

তোমার জিভছোলাটা আমার বড্ড প্রিয়
সারারাত ধরে জমে থাকা শব্দগুলো
মিউকাসে মাখিয়ে কি সুন্দর
ঢেলে দেয় বেসিনে...
কাউকে শুনতে হয় না                                      গন্ধ গন্ধ কথা
                                                                   দমবন্ধ স্লোগান
                                                                   কমঅন্ধ স্লোগান
                                                                   গন্ধ গন্ধ কথা.........।।


জঙ্গলে যখন সন্ধ্যা নামল
তুই বললি... ''চলি, ভাল থেকো''
কত করে বললাম,
'আমি যে সূর্য দেখতে পাচ্ছি
দেখতে পাচ্ছি, প্রিয়বন্ধুকে, আমার ছায়া
দেখতে পাচ্ছি, উড়ন্ত চিলের সবটুকু ক্ষুধা.........
তুই বললি...
''চোখ বোজো, আর স্বপ্ন নয়...
বাস্তবে ফিরে দেখো
ইভ, তোমার জন্যে  আজ সারা পৃথিবীতে
রাত্রি সাজিয়ে রেখেছে.........।।
জানো ইশ্বর,
কাল দেখলুম,  প্রাচীন কোনো এক গাছের ডালে
সারিবদ্ধ পিঁপড়ের নির্বাক মিছিল...
যারা গন্তব্য রেখেছিল গুছিয়ে
তাদের শরীরে বোঝাই
সভ্যতার বিলাসিতা......।।

Thursday, 2 January 2014




ধূসর বৃদ্ধ একটা পাঞ্জাবী,
চোখে আতশ থুরি 
চশমা , ঈশ্বরভক্তি আর
বিপন্ন দাঁতের সারি বইছেন
অগণিত দুপুর ধরে........................ লক্ষ্মীকান্ত বাবু ।
তার ঘরের লক্ষ্মী ক্ষান্ত নন
তবে উষ্ণশোণিত বটে ।
কুস্মণ্ডের কাল জ্ঞান নেই বলেই
ছেলেটা বেকার, পেট ভোরে রোজ
প্রচুর গুটখা আর বাবার গাল খায়।

বছর খানেক আগে তার লক আউট হওয়া
কারখানায়...খালি পায়ে যাওয়া যায়
তিন-চার মাস আগে 
কেরানি কার্তিকবাবু
এক শ্রমিক সংগঠনের সভায়
গায়ে পেট্রোল ঢেলেছিল
আর
জ্বালিয়েছিল দেশলাই
অতিশিক্ষিত এক বাচাল বলেছিল
হিস্টিরিয়া...।।

আরেক মেয়ে লক্ষীবাবুর
পড়াশুনা করে কম
বাসন মাজে বেশী...
একদিন নাকি পাড়ার
আরেকটা মেয়েকে পড়াতে শুরু করেছিল
আর যায় না
মা বলেছে
'মেয়েটার বাবা কে কেউ জানে না'

লক্ষীবাবুর টালির ঘর থেকে
 চাঁদ দেখা যায়
স্বপ্ন নয়...।

গতমাসে এক মন্ত্রী এসে পাড়ার
সবাইকে উঠে যেতে বলেছেন
গন্তব্য
.........খেয়াল নেই

ছেলেটা কদিন হল 
কোন মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে
খবর পাননি, চানওনি...

এদিকে মেয়েটাও কাল রাতে
খুব দেরিতে এক বাড়ি থেকে ফিরেছে
আর প্রচুর কেঁদেছে।

এদিকে ধুঁকতে থাকা ফুসফুস
আর বিলুপ্তপ্রায় দৃষ্টিশক্তি নিয়ে
এখনও লক্ষীবাবু রাস্তার ধারের কলে
রোজ সকালে দাঁত মাজেন...
মাঝে মাঝে শুধু
মাড়ী থেকে রক্ত পরে
আর চশমা গড়িয়ে জল......
দেখেন
ঈশ্বর দাঁড়িয়ে থাকেন
রাস্তার ওপারে
একা......।।
হ্যান্ডস আপ...

স্বপ্ন বিক্রেতারা যাও

আমরণ নির্বাসনে..................।।
পৃথিবীর সমস্ত ফুটপাথ
একের পর এক
জোড়া লাগিয়ে হাঁটতে থাকা
দুটো প্রিয় মানুষের
আঙ্গুলেরা,


তোরা কয়েক শতাব্দী পর মমি হয়ে যাস......।।
বিস্ফোরণ
রক্তের পিচকিরি
ঠিকরে আসা চোখ
উন্মিলিত আঙুল
মোমবাতি পোড়া শোক...............।।